বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সিরিজ জয় টাইগারদের

Reporter Name
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০
  • ৬৫ পড়েছেন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। স্বাগতিক বাংলাদশের বিপক্ষে ৩২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩১৮ রান সংগ্রহ করে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ জয় পায় ৪ রানের।

তবে ম্যাচের মাশরাফিদের রীতিমত ভয় পাইয়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কেননা শুরুতে রান তুলতে হিমশিম খাইলেও সেই দলই শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে দারুণ রোমাঞ্চ উপহার দেয়। জয়ের জন্য শেষ দুই প্রয়োজন ছিল ৬ রান। কিন্তু আল-আমিনের কাছে পরাস্ত হয় ঝড়ো ব্যাটিং করা ডোনাল্ড তিরিপানো। শেষ পর্যন্ত ৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। সফরকারী দলের ওপেনার রেগিস চাকাভাকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন টাইগার পেসার শফিউল ইসলাম। এরপর অবিশ্বাস্য এক থ্রোয়ে জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলরকে রান আউট করেন মিরাজ। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পর বল হাতে শন উইলিয়ামসের (১৪) উইকেট তুলে নেন মিরাজ।
৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ের হয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন টিনাশে কামুনহুকামউই। তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। তবে সফরকারী দলের এই ওপেনারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাইজুল। এই বাঁহাতি স্পিনারের বলে মিডল স্ট্যাম্পের বেল ভেঙে গেলে শেষ হয় তার ৭০ বলে ৫১ রানের ইনিংস।

এরপর ৮১ রানের জুটি গড়েন ওয়েসলে মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজা। জুটি গড়ার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন যুব বিশ্বকাপের তারকা মাধেভেরে। তাইজুলের শিকার হয়ে মাধেভেরে (৫২) বিদায় নেওয়ার পর ফিফটি তুলে নেন রাজাও। তবে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রাজাকে (৫৭ বলে ৬৬) ফিরিয়ে ব্রেক থ্রো এনে দেন মাশরাফি। এর আগে রিচমন্ড মুতুম্বামিকে (১৯) দ্রুত বিদায় করেন তাইজুল।

২২৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি জিম্বাবুয়ে। বরং টিনোটেন্ডা মুতুম্বোদজি আর ডোনাল্ড তিরিপানো মিলে টাইগার বোলারদের কঠিন সময় উপহার দিয়েছেন। এই দুজনের ঝড়ে ১৮ বলে ৪১ রান থেকে শেষ দুই ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ রান। নিজের নবম ও ইনিংসের ৪৯তম ওভারে শফিউল খরচ করলেন ১৪ রান।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান। আল-আমিনের করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ২১ বলে ৩৪ রান করা মুতুম্বোদজি। এর আগে দুজনের জুটিতে আসে ৪৩ বলে ৭৮ রান। কিন্তু তিরিপানো থামার পাত্র নন। স্ট্রাইকিং প্রান্তে গিয়েই পরপর দুই ছক্কা মারেন তিনি। তবে পঞ্চম বলে ডট আর শেষ বলে ১ রান খরচ করেন আল-আমিন। ২৮ বলে ৫৫ রানের ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত দলে নাম লেখান তিরিপানো।

বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল তাইজুল নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, শফিউল, মিরাজ ও আল-আমিন। আল-আমিন ছিলেন সবচেয়ে খরুচে (১০ ওভারে ৮৫ রান)। কম যাননি শফিউলও (৯ ওভারে ৭৬)।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডে নিজেকে ছাড়িয়ে যান টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তামিম।

এর আগে, ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। এটিই ছিল এতদিন পর্যন্ত তার এবং বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।

নিজের রেকর্ডের ১৫৮ রান করে আউট হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন তামিম। আউট হওয়ার আগে ১৩৬ বলে ২০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৫৮ রান করেন।

এর আগে নিজের ৪৮তম ফিফটিকে ১২তম সেঞ্চুরিতে নিয়ে যান তামিম। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক শন উইলিয়ামসের করা ইনিংসের ৩৬তম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরি উদযাপন করেন তিনি। এই নিয়ে প্রায় ২ বছর ও ২৩ ইনিংস পর ব্যক্তিগত তিন অঙ্কের ঘরে পা দিলেন তামিম। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৭ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান তামিম।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত দুর্দান্ত খেলতে থাকেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে রানআউট হয়ে ফেরেন লিটন। লিটনের ড্রাইভ ঠিকমতো ফেরাতে পারেননি বোলার কার্ল মুম্বা। তার হাতে লেগে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকা লিটন চেষ্টা করেও সময়মতো ক্রিজে ফিরতে পারেননি। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এদিন দুই অংকের ঘরও স্পর্শ করতে পারেননি (৯)। সেই রেশ না কাটতেই তামিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রানআউটে কাটা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ বলে ঝড়ো ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৬তম ওভারে ওয়েসলি মাধেভেরের চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে টিনোটেন্ডা মুতোমবোজির ক্যাচে পরিণত হন। ৫০ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

মুশির বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ১০৬ রানের জুটি গড়েন তামিম। মাহমুদউল্লাহও দারুণ ব্যাট করছিলেন। কিন্তু তুলে মারতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে যুব বিশ্বকাপ খেলা মাধেভেরের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন ৫৭ বলে ৪১ রান করা এই ব্যাটসম্যান। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৩৪ রান যোগ করে বিদায় নেন তামিম।

দলকে ৩০০ রান থেকে ৮ রান দূরত্বে রেখে তামিম বিদায় নেওয়ার পর মুম্বার বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ (৫)। টিকতে পারেননি মাশরাফিও (১)। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার তিরিপানোর বলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক। তিরিপানোর করা ওই ওভারেই কোনো রান না করেই বিদায় নেন তাইজুল। শেষ ওভারে মিঠুন আর শফিউল মিলে যোগ করেন ৯ রান। মিঠুন অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ৩২ রান নিয়ে।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুম্বা ও তিরিপানো দুইটি করে উইকেট লাভ করেন। অন্যদিকে একটি করে উইকেট নেন মাধেভেরে ও তাশুমা।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ