জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাঙালির মহাজাগরণের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অকুতোভয়। তিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, বাঙালির শোষণ-বঞ্চণা থেকে মুক্তি। জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন। তিনি সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মনিক মিয়া হলে ‘বঙ্গবন্ধুর “বঙ্গবন্ধু উপাধি” প্রাপ্তি-শ্রদ্ধা, ভালোবাসার অমলিন স্মৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি বিশেষ অতিথি ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ এমপি।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের সভাপতি ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বক্তব্য রাখেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ, প্রবীণ নাট্যকার ও অভিনেতা ইনামুল হক, অভিনেতা মাসুম আজিজ, চিত্র নায়ক রিয়াজ, সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল প্রমুখ।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে গভীরভাবে ভালবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালির পরম বন্ধু। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপোষহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বাঙালির সকল প্রাপ্তিই এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। জাতির পিতাকে স্মরণ করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৫৪’র যুক্তফ্রন্টের দিকে, ৬৬’র ১১ দফার দিকে, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থানের দিকে। তিনি আরো বলেন, ’৬৯ এর ২৩ ফেব্রুয়ারি “বঙ্গবন্ধু” উপাধি এবং ’৭২ এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির জন্য দুইটি মাইলফলক। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের দিকে তাকিয়ে স্পিকার বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করে জীবন্ত কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন, যা জাতির জন্য গর্বের।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়, সেদিন আমি তাকে ‘তুমি’ সম্বোধন করেছিলাম। বলেছিলাম, সার্জেন্ট জহুরুল, অধ্যাপক শামসুজ্জোহা, আসাদ, রুস্তমের রক্তের বিনিময়ে তোমাকে মুক্ত করেছি। বলেছিলাম, আমরা তোমার কারণে ধন্য, তোমার কাছে ঋণী। আজ তোমাকে একটি উপাধি দিয়ে কিছুটা ঋণমুক্ত হতে চাই। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক নেতাকে অনেক নামে সম্বোধন করা হয়েছে। কাউকে মহাত্মা, কেউ নেতাজি, দেশবন্ধু, শেরে বাংলা উপাধি পেয়েছেন। তবে এসব উপাধিদের কোনোটাই আনুষ্ঠানিক না, মহাত্মা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু বঙ্গবন্ধু উপাধিটা দেওয়া হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর তুলনা শুধু তিনি নিজেই, অন্য কেউ না। তিনি একাধারে সমাজের, দেশের, বাঙালির ও বিশ্বের বন্ধু ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সমুদ্রের গভীরতা মাপা যাবে কিন্তু জনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কী পরিমাণ ছিল তা মাপা যাবে না। তিনি আরো বলেন, যুগে যুগে অনেক নেতা এসেছেন কিন্তু তার মতো এতো বিচক্ষণ নেতা বিশ্বে বিরল। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, এরপর দলকে সংগঠিত করেছেন, পরে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, তারপর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।