সারাদেশে পেঁয়াজের বাজার লাগামহীন। বাজারে পেঁয়াজের কেজি যখন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তখন অভিযানে গিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক ম্যাজিস্ট্রেট। অথচ সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার শহরের নিচের বাজারের পাইকারি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ছবি তুলতে গিয়ে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুই সাংবাদিকও।

আহতরা হলেন- এসএম শাফায়েত ও তৌহিদুর রহমান তপু।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার খুচরা ও পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এডিসি সিব্বির আহমেদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এসময় বড় বাজারের (নিচের বাজার) আড়ত পট্টির নাফিসা বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীর বাণিজ্যালয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযানে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করেন। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। লাঞ্ছিত করেন দুই পুলিশ সদস্যকে।

এসময় ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন তারা। এতে স্থানীয় দুজন সাংবাদিক আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ ও সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।

মারধরের শিকার শাফায়েত জানান, অভিযানের খবর পেয়ে তিনিসহ দুজন সংবাদ সংগ্রহে যান। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে ঘেরাও করে রাখার ছবি তুলতে গেলে তাকে এবং তৌহিদুর রহমান তপু নামের আরেক সাংবাদিকে মারধর করে ব্যবসায়ীরা। ভেঙে ফেলে তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিসি) সিব্বির আহমেদ জানান, অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির যথাযথ প্রমাণ ও মূল্য তালিকা না টানিয়ে ইচ্ছামতো পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, বাজার মনিটরিং করার সময় ব্যবসায়ীরা যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা ন্যক্কারজনক। অবশ্যই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে আমি এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।