প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে পারে‌। দ্বিতীয় দফায় আবার বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে। ইউরোপের কোনো কোনো দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।

বুধবার গণভবনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সভা অনুষ্ঠিত হলো।

সভায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ পর্যন্ত সরকার ও আওয়ামী লীগের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। চলমান করোনা পরিস্থিতির আবার অবনতি হতে পারে এবং দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ আঘাত করতে পারে বলে সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতারা করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা জন্য দলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসা এবং মানুষের পাশে থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, “মহামারীতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকার সহায়তা করেছে। আমার মনে হয় একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে এইভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং মানুষকে সহযোগিতা করেছে।

“অন্য কোনো দল হলে এটা মোটেই করতো না বরং তারা দেখতো যে কীভাবে এখান থেকে কিছু ফায়দা লুটতে পারে কিনা,এটাই। কিন্তু আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছি। এটা আমাদের নীতি, এটা আমাদের লক্ষ্য। এটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস ছাড়াও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।কারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।

“রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা যদি অন্য দলগুলো দেখি তারা হয়ত শুধু ওই লিপ সার্ভিস..অর্থাৎ মুখে মুখে কথা বলেছে। কিন্তু প্রকৃত মানুষের কাছে গিয়ে মানুষকে সাহায্য করা সেটা কিন্তু আমরা অন্যদল বা অন্য সংস্থা.. অনেককেই আমরা দেখেছি তাদের উপস্থিতিটা ওভাবে দেখিনি। এবং ওই এনজিও-টেনজিও অনেকেই আছেন কিন্তু তাদেরকে কিন্তু আমরা ওভাবে দেখি নাই।”

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও সরকার ৫ লক্ষ কোটি টাকার মতো বিশাল বাজেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত বড় বিশাল বাজেট। এটা দেওয়া কিন্তু কম কথা না। কিন্তু আমার কথা ছিল..জানি না করোনার জন্য কতটুকু করতে পারব না পারব কিন্তু আমার কথা ছিল আমাদের প্রস্তুতিটা থাকতে হবে সম্পূর্ণভাবে। যদি অবস্থা ভালো হয় আমরা সবটুকু অর্জন করতে পারব। যদি না পারি তারপরও তখন সেটা আমরা আবার দেখব। আমরা কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। বাজেট আমরা ঘোষণা দিয়েছি দেশের জন্য।”

সভায় শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রাম ও পঁচাত্তরের ১৫ই অগাস্ট তাকে সপরিবারে হত্যার কথা তুলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

সভায় করোনা ভাইরাসে প্রাণ হারানো দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।