রিয়া বলতে চাইছেন, তিনি এনসিবি-র জেরায় মাদককাণ্ডে জড়িত থাকা ও মাদক সেবনের যে-সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করেছেন, তা সবই তাঁকে দিয়ে জোর করে করানো হয়েছে! রিয়া যে ফের মিথ্যে বলছেন, তা আরেকবার প্রমাণিত হল মুম্বই: টানা ৩ দিন জেরার পর মঙ্গলবার মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)

গ্রেফতার করে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের চর্চিত বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে। সেদিনই রিয়ার এক দফা জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসেই রাত কাটান রিয়া চক্রবর্তী। বুধবার সকালে অভিনেত্রীকে মুম্বইয়ের বাইকুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদককাণ্ডে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় তাঁকে।

আগামী ২ সপ্তাহ বাইকুল্লা জেলেই রাখা হবে রিয়াকে। বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে রিয়াকে ফের ‘নির্দোষ’ দাবি করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে। আবেদনে বলা হয়, ‘রিয়া কোনও অপরাধ করেননি। তাঁকে মিথ্যা ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর থেকে এনসিবি জোর করে বয়ান আদায় করেছে!’ অর্থাৎ রিয়া বলতে চাইছেন, তিনি এনসিসবি-র

জেরায় মাদককাণ্ডে জড়িত থাকা ও মাদক সেবনের যে-সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করেছেন, তা সবই তাঁকে দিয়ে জোর করে করানো হয়েছে! কিন্তু কথায় বলে না, সত্যিটা চাপা দেওয়া যায় না, ঠিক একসময়ে বেরিয়ে আসে! রিয়ার ক্ষেত্রেও তার বিকল্প হল না! তিনি যে ফের লাগামহীনভাবে মিথ্যে বলে চলেছে, তার সবথেকে বড় প্রমাণ সামনে এল, প্রকাশ্যে কিছু

ভিডিও ফুটেজ যেখানে দেখা যাচ্ছে রোল করা সিগারেট খাচ্ছেন রিয়া চক্রবর্তী! সিগারেটের ভিতর হয় মারিজুয়ানা কিংবা হাশিশ রয়েছে। প্রথম ভিডিওটি ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি পার্টিতে রিয়া, সুশাসন্ত সিং রাজপুর এবং আরও বেশ কয়েকজন গান গাইছেন। যে ভিডিওটি শ্যুট করছেন, তিনি জানতে চান সুশান্ত কি চড়শ খাচ্ছেন ?

উত্তরে তিনি জানান, না তিনি মাদক সেবন করছেন না! এটি VFX–Visual effects যার মাধ্যমে সিনেমায় সিগারেট থেকে ধোয়া বের হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। কিন্তু রিয়া জানান, তিনি ‘রোলড সিগারেট’ খাচ্ছেন! দেখুন সেই ভিডিও ভিডিওর পরের অংশে ভজন গাইতে শোনা যায় সুশান্ত সিং রাজপুতকে! এখানেই প্রশ্ন দেশবাসীর, সুশান্ত কি সত্যিই

অবসাদে ভুগছিলেন, নাকি তাঁকে নিয়মিত ড্রাগস দিয়ে অবসাদগ্রস্ত করে তোলা হচ্ছিল ? অন্যদিকে, রিয়া ছাড়াও মাদকচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এনসিবি। এদের মধ্যে রয়েছেন রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তী, সুশান্তের প্রাক্তন হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা ও অভিনেতার রাঁধুনী দীপেশ। এই ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক

জোগাড় ও সুশান্তকে মাদক জোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে জাইদ ভিলাত্রা ও আবদেল বসিত পরিহার নামে ২ মাদক পাচারকারীকে । গ্রেফতার হওয়া মোট ৬ জনকেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ৬ জনেরই জামিনের আবেদন পেশ করা হয় বিশেষ আদালতে! তবে শুনানির পর রায়দান স্থগিত

রাখা হয়েছে! অর্থাৎ, গতকাল রাতটাও রিয়া চক্রবর্তীকে জেলেই থেকেছেন। জেলে ছিলেন বাকি ৫ অভিযুক্তও! আজ রিয়া শৌভিক -সহ বাকি চারজনের জামিনের আবেদনের রায়দান! নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর তরফে দাবি করা হয়, রিয়া চক্রবর্তী ‘

ড্রাগ সিন্ডিকেট’-এর সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত, সক্রিয় সদস্য। সুশান্তের জন্য তিনিই মাদক আনাতেন, অন্যান্য নানা জায়গাতেও মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। NDPS আইন অনুসারে ২৭ এ, ২১, ২২, ২৮ ও ২৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছে এনসিবি।