সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করার ঘণ্টা দুয়েক পরে মাকে ফোন দিলেও ছেলের মৃত্যুর কথা জানায়নি পুলিশ। বিভিন্ন মহলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পরিবার। এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে বিচার চাইছেন তারা। অপরাধ ঢাকতে সিনহার বিরুদ্ধে নানা গল্প সাজানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। এদিকে, সামরিক মর্যাদায় বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে সিনহাকে।

সামরিক মর্যাদায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। কিন্তু তার মৃত্যুকে ঘিরে পরিবার ও সতীর্থদের মনে জেগে রইলো প্রশ্নের ঝড়। ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে বাহারছড়া তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ সিনহা যখন বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন, তখন প্রতিদিনের মতো ছেলের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে কল করে যাচ্ছিলেন মা।

রাত ১১টার দিকে সিনহার মোবাইল থেকেই ফিরতি কল করে জানতে চাওয়া হয় তার পরিচয়। কিন্তু দেয়া হয়নি ছেলের মৃত্যুর খবর।

যে ভাই অফুরান জীবনশক্তির উৎস ছিলেন, তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের পুলিশি বয়ান মানতেই পারছেন না বোন শারমীন। সিনহার অস্ত্র চালনায় শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট এখনো শোভা পাচ্ছে বসার ঘরে। পুলিশকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করার অভিযোগে সন্দেহ জানালেন ভগ্নিপতি।

সাবেক মেজর সিনহা ২০১৮ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তিনি অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপসচিব মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ খানের ছেলে। গত ৩ জুলাই স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিন শিক্ষার্থীসহ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভ্রমণ ভিডিও তৈরি করতে কক্সবাজারে যান। ৩১ জুলাই রাতে শামলাপুরের একটি পাহাড়ি এলাকায় শুটিং শেষে ফেরার পথে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।