তীব্র ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি ঝড়িয়ে সাগর থেকে উপকূলে উঠেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর মূল চোখ ভারতের দিকে। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অংশের ওপর এই মুহূর্তে তোপ দাগছে আম্পান। অন্যদিকে, অন্য উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে পটুয়াখালীতে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে ও মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দুজন মারা গেছে। আর পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন আরেক ব্যক্তি।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানিয়েছেন, ঝড়ের কেন্দ্রে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার। সাতক্ষীরায় রাত সাড়ে ৯টায় এমন গতিবেগ থাকলেও পরবর্তীতে এর গতিবেগ কমে এখন ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কেন্দ্র সাতক্ষীরার খুব কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করছে। সাতক্ষীরা শহরে রাত ৯টা থেকে ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো বাতাস বইছিল। তবে পরবর্তীতে রাত ১০টার পর ঝড়ের গতিবেগ কমে যায়। এর গতিবেগ কমে এখন ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।  ঝড়টি এখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করবে। এরপর স্থলভাগের আরও ওপরে উঠে যাবে। আম্পানের প্রভাবে জেলায় দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ের কারণ শহর এখন বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় তিনি জানান,  ‘বিকাল ৪টা থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের অগ্রভাগ সাতক্ষীরা-সুন্দরবন উপকূলে প্রবেশ করেছে। এটা ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে।  সাতক্ষীরা শহরে বিকাল ৫টা থেকে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়োবাতাস বইছে। বিকাল পর্যন্ত ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে সাগরের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে এরইমধ্যে ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ার হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর আশঙ্কা করেছে, রাতে উপকূলীয় জেলাগুলোতে নিম্নাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের সময় পানি উঠবে অনেক বেশি পরিমাণে। এসব এলাকায় ১৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি হবে প্রায় সারারাতই।

অন্যদিকে, পটুয়াখালী সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আম্পান ঝড়ে বাতাসের তীব্রতা বেড়েই চলছে। পাশাপাশি গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এরইমধ্যে গাছ চাপা পড়ে এবং মানুষকে সতর্ক করতে গিয়ে নৌকা ডুবে উপজেলার প্রচারাভিযানে একটি ইউনিটের দলনেতা মারা গেছেন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে এর নিচে চাপা পড়ে রাসেদ নামে ৬ বছরের একটি শিশু। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক নিশ্চিত করেছেন, পটুয়াখালীর  কলাপাড়ায় জন সচেতনতার প্রচার কাজ চালাতে গিয়ে ধানখালীর ছৈলাবুনিয়া এলাকায় খালে নৌকা ডুবে সিপিপি’র দলনেতা শাহআলম নিখোঁজ হন। পরে ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করেছে।তিনি জানান, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে কলাপাড়া, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার অন্তত ১৭টি গ্রাম।

এদিকে, পটুয়াখালীতে আম্পানের ক্ষয়-ক্ষতি মনিটরিং করার জন্য জেলা ও উপজেলায় ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলায় মোট ৭৫২টি আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ৩২৫টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। পায়রা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্কাবস্থানে রয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বন্দরের সব কার্যক্রম।

পটুয়াখালীতে আম্পান মোকাবিলায় কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, কোস্টগার্ড, ফায়ার কর্মী, আনসার, স্বেচ্ছাসেবী সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, পিরোজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর সড়কে দেয়াল চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার নাম  শাজাহান মোল্লা (৬০)। রাত সাড়ে আটটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি গিলাবাদ।