স্টাফ রিপোর্টার ঃ সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন পাঠানটুলী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে চিহ্নিত অস্ত্রধারী মাদক সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুই ভাইকে। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী সজিব হোসেন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। যার নং-১৮১৭।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, পাঠানটুলী ১০১ এর বাসিন্দা আলী আক্কাস এর বাড়ীতে তিনটি খালি রুম ভাড়া দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলে গত ১৬ মে তারই ছোট ভাই আমির হোসেন বাড়ী ভাড়া দিতে বাধা দেয় এবং সাইনবোর্ড খুলে ফেলে। এই সময় আলী আক্কাস ও তার ছেলে শাকিল প্রতিবাদ করলে আমির হোসেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জীবন নাশের হুমকী দিয়ে আমির হোসেনের সালা-সম্বন্ধি সন্ত্রাসী রাজিব সরকার, সজিব সরকার, সবুজ ও শাকিল সরকারকে ফোন দিয়ে এনে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আলী আক্কাস ও তার বড় ছেলে শাকিল ও ছোট ছেলে সজিব হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাপাথারি ভাবে পিটিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে ভুক্তভোগীদের। এ সময় শাকিল সরকার সজিব হোসেনের প্যান্টের পিছনের পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং রাজিব সরকার, আমির হোসেন ও সবুজসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুদি দোকান ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। আহতদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় জীবননাশ সহ মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকী প্রদান করে আমির হোসেন গং।

থানা পুলিশের কর্তব্যরত অফিসার আল আমিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহত ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ থানায় গ্রহণ করেন। আহতদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়াতে ভর্তি করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু রাজিব-সজিব ও সজিবের বড় ভাই স্থানীয় এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু ও একাধিক মামলার আসামী শাহজাহান সরকার ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং আহত ব্যক্তিরা যাতে থানায় মামলা করতে না পারে এজন্য জোর তদবির চালিয়ে বাদী পক্ষকে হুমকীর মধ্যে রাখেন।

কিন্তু ঘটনার পরের দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক আহত ব্যক্তিদের ঘটনা শুনে মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবারও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বললে আহতরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং-১৮১৭। ওসি কামরুল ফারুক সন্ত্রাসীদের কোন ধরনের ছাড় দিবেনা বলেও আশ্বাস প্রদান করেন বলে জানা গেছে। তবে ভুমিদস্যু শাহজাহান আপোষ মীমাংসার কথা বললেও বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট নাটক সাজিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকীও দিচ্ছে বলে জানা যায়।

বর্তমানে বাদী সজিব হোসনে সহ তার পরিবার এর সদস্যরা আসামীদের অব্যাহত হুমকীতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান। এ ব্যপারে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও এসপির আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।