দলের ভোটার দেখে ত্রাণের তালিকা করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলাপকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারা দলের ভোটার এই দেখে তালিকা করা যাবে না। আমরা চাই, যারা প্রকৃত জনগণ তারা তালিকায় আসুক। আওয়ামী লীগ শুধু দলীয় রাজনীতি করে না, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য রাজনীতি করে। এই সুস্পষ্ট বার্তাটি আমরা দিতে চাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটি তালিকা করবে। এটি স্থানীয় প্রশাসনকে দেবে। স্থানীয় প্রশাসন তালিকাটি যাচাই-বাছাই করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ বেশ কয়েকটি জেলায সব থেকে বেশি করেনা আক্রান্ত। অন্যান্য জেলায়ও কিছু আছে কিন্তু ঢাকা এবং এর আশপাশে ভাইরাস কেন এত বেশি হলো। এটি নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চাই।

তিনি বলেন, যেহেতু সবকিছু এখন বন্ধ। অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। যারা দিনমজুর কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী, এমনকি নিম্নবিত্তদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। সবাইকে সহযোগিতা করব। এমনকি এটা আমরা শুরু করেছি। মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না যারা, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আরও ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড করে দেব। ১০ টাকার ওএমএস চাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এটা স্থগিত করি।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড যে যেখানে আছে প্রত্যেকে কিন্তু অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

‘এই করোনাভাইরাস এমন একটা জিনিস সারা বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও দেখা যায়নি। সারাবিশ্বে ২৫০ কোটি মানুষ ঘরবন্দি। এটি একটি অদৃশ্য শক্তি, যা চোখে দেখা যায় না। এর প্রভাবে সারা বিশ্ব একটা জায়গায় চলে এসেছে। সারা বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা হবে। এভাবে চিন্তা করে আমরা ইতোমধ্যেই ৯২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরি করেছি।’

এসময় যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন তিনি। এছাড়া যারা অসুস্থ তাদের সুস্থতাও কামনা করেছেন সরকার প্রধান।

এদিকে গণভবন থেকে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত জেলাগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ।

ভিডিও কনফারেন্সটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন ও সোস্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।