করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত ৬২১ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩৪ জন। আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকই ঢাকার বাসিন্দা। আর ৩৫ শাতাংশ রোগী ঢাকার বিভাগের অন্যান্য জেলার।

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার ৭৫টি এলাকায় করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৩ জন। এছাড়া ঢাকা জেলার অন্যান্য অংশে আরও ২২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ পুরো ঢাকার হিসাব করলে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৩৫ জন, যা সারা দেশে আক্রান্তের প্রায় ৫৪ শতাংশের সমান ।

ঢাকা মহানগরের যে ৭৫টি এলাকায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে, তার মধ্যে কয়েকটি ক্লাস্টারে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঢাকার পর দেশে সবচেয়ে বেশি রোগী ধরা পড়েছে রাজধানীর পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জে, যেখানে গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

ইতোমধ্যে পুরো অবরুদ্ধ করে ফেলা এ জেলায় এ পর্যন্ত ১০৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এমনকি জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেও এখন আক্রান্ত।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ- এ দুই জেলাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪২ জন, যা দেশে মোট আক্রান্তের ৭১ শতাংশের বেশি।

পুরো ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত ৫২৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা দেশে মোট আক্রান্তের ৮৫ শতাংশের বেশি। ৬ শতাংশ রোগী চট্টগ্রাম বিভাগের এবং বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সারা দেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। তবে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এখনও কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

ঢাকা বিভাগ: ঢাকা মহানগরীতে ৩১৩, ঢাকা জেলার অন্যান্য এলাকায় ২২, নারায়ণগঞ্জে ১০৭, গাজীপুরে ২৩, মাদারীপুরে ১৯, মুন্সীগঞ্জে ১৪, কিশোরগঞ্জে ১০, রাজবাড়ীতে ৬, মানিকগঞ্জে ৫, নরসিংদীতে ৪, গোপালগঞ্জে ৩, টাঙ্গাইলে ২ এবং শরিয়তপুরে ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে কেবল ফরিদপুর জেলায় কারও মধ্যে সংক্রমণ ধরা পাড়ার তথ্য আইইডিসিআরের তালিকায় নেই।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রামে ১২ জন, কুমিল্লায় ৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ জন, চাঁদপুরে ৬ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ জন, কক্সবাজারে ১জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিভাগের ফেনী, নোয়াখালী জেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে কোনো কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েনি।

সিলেট বিভাগ: এ বিভাগের ৪ জেলার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জে একজন করে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুনামগঞ্জে এখনও কারও মধ্যে সংক্রমণের খবর আইইডিসিআরের কাছে নেই।

রংপুর বিভাগ: গাইবান্ধায় ৬, নীলফামারীতে ৩, ঠাকুরগাঁয়ে ৩, রংপুরে ২ এবং লালমনিরহাটে ১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

এ বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগরে কোনো রোগী এখনও শনাক্ত হয়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগ: এ বিভাগের ৪ জেলার সব জায়গা থেকেই সংক্রমণের খবর এসেছে। এর মধ্যে জামালপুরে ৬, ময়মনসিংহে ৫, শেরপুরে ২, নেত্রকোণায় একজন আক্রান্ত হয়েছেন।

বরিশাল বিভাগ: এ বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরগুনায় ৩, ঝালকাঠিতে ৩ এবং পটুয়াখালীতে একজন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। বরিশাল, ভোলা ও পিরোজপুরে কারাও মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

খুলনা বিভাগ: এ বিভাগের দশ জেলার মধ্যে কেবল চুয়াডাঙ্গায় একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এসেছে আইইডিসিআরের তালিকায়।

বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল ও সাতক্ষীরায় এখনও কারও কোভিড-১৯ ধরা পড়েনি।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে গোটা পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১৮ লাখ অতিক্রম করেছে। আর মোট মৃত্যু ১ লাখ ছাড়িয়েছে শুক্রবার মধ্যরাতেই। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।