বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে গোটা পৃথিবীতে কোভিড-১৯য়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১৮ লাখ অতিক্রম করেছে। আর মোট মৃত্যু ১ লাখ ছাড়িয়েছে শুক্রবার মধ্যরাতেই। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, এ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত মোট মানুষের সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৫ জন। এদের মধ্যে রোববার গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭২ হাজার ৫১৪ জন। তবে আশার কথা এই যে, চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছেন লাখ লাখ মানুষ। সোমবার সকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ জন।

তবে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮৩ জন। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ৮৫৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে করোনায় মৃতের সংখ্যা যে আরও বাড়ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, রোববার গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৫ হাজার ৪১৫ জন। ফলে এই ভাইরাসে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৭ জন। এদের মধ্যে সোমবার সকালেই মারা গেছেন আরও ৫৩ জন।

করোনাভাইরাসে মৃত্যুর তালিকায় ইতালিকে হটিয়ে বিশ্বের শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববারও সেখানে মারা গেছে আরও ১ হাজার ৫২৮ জন এবং নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ২৭ হাজার ৪২১ জন। সবমিলিয়ে দেশটিতে মারা গেছেন ২২ হাজার ১১৫ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৩ জন।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। সেখানে সবমিলিয়ে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ হাজার ২০৯ জন। আর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩১ জন।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় এর পরেই অবস্থান করছে ইউরোপের ৪ দেশ ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।

ইতালিতে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৩ জন এবং করোনায় মারা গেছে দেশটির প্রায় ২০ হাজার মানুষ, ১৯ হাজার ৮৯৯ জন।

আর ফ্রান্সে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯১ জন এবং মোট মৃত্যু ১৪ হাজার ৩৯৩ জন।

জার্মানিতে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৪ জন এবং মারা গেছেন মোট ৩ হাজার ২২ জন।

যুক্তরাজ্যে এই মুহূর্তে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৮৪ হাজার ২৭৯ জন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ, অর্থাৎ ১০ হাজার ৬১২ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল চীন থেকে। কিন্তু এই দেশ সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কমিয়ে এনেছে দ্রুত। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে তারা। এখন দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৮২ হাজার ১৬০ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৪১ জন। তবে সোমবার সকালেও দেশটিতে নতুন করে আরও ১০৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আর মারা গেছেন আরও ২ জন। গত কয়েক দিনের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।

রোববার সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৯ জন। তবে ওইদিন কেউ মারা যায়নি।

এর আগে গত মঙ্গলবারও কেউ মারা যায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর সেদিনই প্রথমবারের মতো মৃত্যুহীন একটি দিন পার করেছে দেশটি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় করোনার কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত উহানের লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। করোনার আঘাত সামলে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে চীন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরান। দেশটিতে এই মুহূর্তে মোট ৭১ হাজার ৬৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন মোট ৪ হাজার ৪৭৪ জন।

এদিকে বাংলাদেশে রোববার পর্যন্ত সবমিলিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬২১ জন এবং মারা গেছেন ৩৪ জন।

সূত্র: ওয়ার্ল্ডোমিটার