বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ৬৭ বছর বয়সী ওই রোগী বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলশনে আছেন। আক্রান্ত রোগীর বাড়ি রাতেই লকডাউন করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার পর লোকটি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই আমরা। তাঁকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’

জানা যায়, অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার আক্রান্ত রোগী চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর নমুনা পরীক্ষা হওয়ার পর করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের করোনাবিষয়ক সেলের বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার করোনা উপসর্গ থাকায় নগরীর দামপাড়া এলাকার ৬৭ বছরের একজনকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডিতে পরীক্ষার পর পজেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, করোনা সন্দেহে এদিন বিআইটিআইডিতে ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে একজনের ‘পজেটিভ’ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘পুলিশ রোগীর বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন থেকে লোকটি আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু চট্টগ্রামের লোকজন এখনো ভয়াবহ ভাইরাসটি সম্পর্কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বাইরে অবাধ বিচরণ করছে। মসজিদেও ভিড় কমছে না। এটাই চিন্তার বিষয়। সবাই সতর্ক না হলে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে কীভাবে?’

উল্লেখ্য, এর আগে দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে কেউ মারা যায়নি। ফলে দেশব্যাপী এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা যা ছিল তাই আছে। মোট মৃত ৬ জন।