করোনাভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে আজ মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান না করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছুটি দিয়েছিলাম, হয়তো আমাদের আরো কয়েকদিন বাড়াতে হতে পারে। কারণ অনেকে গ্রামে চলে গেছেন সেখানে কোনো রকম যেন এ রোগের প্রার্দুভাব দেখা না দেয় সে সময়টা হিসেব করে- আমরা ১০/১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম। এটা ১৪ দিন করতে হবে। … ৯ তারিখ পর্যন্ত হতে পারে। ছুটিটা সীমিত আকারে আমাদের একটু বাড়াতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।

এ সময় সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী শুরু থেকেই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তাতে কান না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যে ডাক্তার ও নার্সদের সুরক্ষায় সব ধরণের ব্যবস্থা রাখতে বলে দিয়েছি। সব ধরণের সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসময় দেশের সব ডাক্তার ও নার্সদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

যেকোন দুর্যোগ সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিম্ন আয়ের সবাইকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। এর বাইরেও সবাইকে তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে তাদের মোবাইলে টাকা পাঠিয়ে দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এগুলো দেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।’

ছুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছুটির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন থেকে সার্কুলার জারি করা হবে।