ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার করোনা পরীক্ষায় ফল পজিটিভ এসেছে বলে এক ভিডিও বার্তায় বরিস নিজেই জানিয়েছেন। সেজন্য স্বেচ্ছা আইসোলেশনে গেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

গোটা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের আক্রমণে কাঁপছে। আর এর মধ্যে বরিসের এমন বার্তায় তার পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে মত দিয়েছেন। কেউ কেউ বরিসের প্রশংসা করে বলছেন তার মতো অন্যরা নিজেরা করোনা আক্রান্ত হলে নির্দিদায় বলবেন এবং চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের যত্ন নিবেন।

কিন্তু কেউ কেউ আবার বরিসের সমালোচনা করে বলেন, যেখানে দায়িত্বশীল একটা পদে থেকে বরিস নিজেই করোনায় আক্রান্ত সেখানে সে কিভাবে মানুষের খেয়াল রাখবেন। তার অবশ্যই আরো সচেতন থাকা উচিত ছিলো।

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের ২০০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে ৫ লাখ ৩১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ২৪ হাজার জনের। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ২২ হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৮২১১। এরপর স্পেনে মারা গেছে ৪৩৬৫ জন। চীনে মারা গেছে ৩২৯১ জন। এ ছাড়া ইরানে মারা গেছে ২২৩৪ জন। ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ১৬৯৮। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ১২৯৬ জন মানুষ।

গত আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল চীন। দেশটিতে সংক্রমণ থেমে যাওয়ায় ভাইরাসটির নতুন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপ। ফলে গত কয়েক দিনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি ও স্পেন।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৮৫ হাজার ৬৫৩ জন মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৭৮২ জন। স্পেনে ৫৭ হাজার ৭৮৬ জন মানুষকে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও ইউরোপে আক্রান্তের কমে এসেছে। তবে আমেরিকায় সে সংখ্যা বাড়ছে। তাই অঞ্চলটি করোনার নতুন উপকেন্দ্র হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।