ভয়াবহ থেকে ক্রমশ অতিভয়াবহ হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। চার দিকে হাহাকার পড়ে গিয়েছে কীভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। চীনে যে গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, চীনের বাইরে এই সংক্রমণ ১৭ গুণ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট তেমনটাই বলছে। সেই সঙ্গে এই ভাইরাসের প্রতিরোধে সমস্ত দেশকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে এই সংস্থা।

শুরুটা হয়েছিল চীনের উহান আর হুবেই প্রদেশ থেকে। সেখানে করোনা মৃত্যুর তাণ্ডব চালাচ্ছে তো বটেই, চীন ছাড়িয়ে ইউরোপ এবং এশিয়াতেও দ্রুত থাবা বসাতে শুরু করেছে এই ভাইরাস। চীনে ইতোমধ্যেই ৩ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, “ভাইরাসকে যেনতেন প্রকারে ঠেকাতে হবে। এটা আত্মসমর্পণের সময় নয়। কোনও অজুহাতের সময় নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

বিশ্বের ৮৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চীনে নতুন করে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকাতেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪২।

অন্যদিকে, ইরানে সংখ্যাটা পৌঁছে গেছে ১০৭-এ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। সেখানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিভিন্ন শহরে চেকপয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের যাতায়াতের রাশ টানা যায়। ‘পেপার মানি’ কম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের। করোনার হানায় ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৮। ইউরোপের মধ্যে প্রথম এই দেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয় এই ভাইরাস। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারের গণ্ডি।

ভারতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে।