বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সাময়িক বন্ধ কাবাঘর

Reporter Name
  • আপডেট : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০
  • ৮৫ পড়েছেন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্ক এখন দুনিয়াজুড়ে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। এ ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে এবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক মসজিদুল হারাম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কাবা শরিফ ধোঁয়া-মোছার কাজ চলছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সানডে এক্সপ্রেস জানায়, দেশটির ইসলামিক গবেষক ডা. ইয়াসির কাধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, ‘সুবহান আল্লাহ, পবিত্র কাবা এখন জনমানবশূন্য। তাওয়াফ বন্ধ রয়েছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কর্তৃপক্ষ হারাম শরিফ পরিষ্কার করছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।’

মক্কা, মদিনা এবং হজবিষয়ে সৌদি বিশেষজ্ঞ ডা. স্বামী আনগায়ি বলেছেন, আমার জীবদ্দশায় দেখা এই নিষেধাজ্ঞাকে সবচেয়ে কঠোর মনে হচ্ছে। তবে ইসলামের এক হাজার ৪০০ বছরের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন নয়। তবে মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রের সুরক্ষায় সৌদি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাহসী এবং বুদ্ধিদ্বীপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এর আগে বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে দেশটি বিদেশি এবং নিজ দেশের নাগরিকদের পবিত্র ওমরাহ পালন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশি এবং বিদেশিদের জন্য ওমরাহ পালন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রায় সারা বছর ধরেই ওমরাহ পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু পবিত্র হজ বছরে একবার পালন করেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম। প্রত্যেক বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে পবিত্র হজ শুরু হয়।

সংবাদমাধ্যম টাইম জানিয়েছে, কীভাবে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও সরকার এটিকে সাময়িক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কখন নিষেধাজ্ঞা উঠানো হবে সে বিষয়েও কোন ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

এদিকে সোমবার প্রথমবারের মতো সৌদিতে একজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে বুধবার আরও এক সৌদি নাগরিককে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে বিশ্বের ৮০টি দেশে। আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যাও তিন হাজার পার হয়েছে। এমন অবস্থায় করোনা ঝুঁকি থেকে বাঁচতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে মুসলিম বিশ্বও। তবে চীনের বাইরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইরান এবং ইউরোপের দেশ ইতালিতে। এ দুই দেশেই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০৭ জন করে মানুষের প্রাণ গেছে।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ